Sunday, July 26, 2020

করোনা ভাইরাস (Covid-19)

অতি সম্প্রতি COVID-19 (Corona virus disease 2019) সমগ্র বিশ্বের জন্য ত্রাস হয়ে উঠেছে। এটি SARS-CoV-2 (severe acute respiratory syndrome corona virus 2) নামক একটি নতুন ধরণের ভাইরাসের সংক্রমণ যা সংক্রমিত হচ্ছে শ্বাসনালী ও ফুসফুসে। বেশ কয়েক বছর আগে SARS নামক যে মহামারী হয়েছিল, তার জন্যেও একধরণের ভাইরাসই ছিল দায়ী। সেই ভাইরাসটির সঙ্গে এই ভাইরাসের বেশ কিছু মিল থাকলেও অনেক অমিল আছে বলে একে করোনা ভাইরাসের বিশেষ উপভাগ SARS-CoV বলা হচ্ছে। কিছু জিনগত অমিল আছে বলে ২ সংখ্যাটি জুড়ে SARS-CoV-2 নাম দেওয়া হয়েছে। International Committee of Taxonomy of Viruses এই নামকরণের দায়িত্বে আছেন। উল্লেখ করা যেতে পারে, চীনের হুবেই প্রদেশে উহহান (Wuhan) শহরে প্রথম যখন হঠাৎ বেশ কিছু মানুষের নিউমোনিয়া হল, তখন প্রাথমিকভাবে একে “অজ্ঞাত জ্বর” বলা হয়েছিল। এ থেকে বাঙালিরা ভেবে নেবেন না যে আসলে ডেঙ্গু হচ্ছিল। চীনে রোগের খবর ধামাচাপা না দিয়ে বরং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাহায্য চাওয়া হয়েছিল, যেকোনো সত্যিকারের অজানা রোগের ক্ষেত্রে সরকারি স্বাস্থ্য অধিকর্তাদের যা কর্তব্য। সেদেশের স্বাস্থ্যকর্তারা সচেতনভাবে খেয়াল করেছিলেন যে প্রথম ধাপে আক্রান্ত সাতাশ জনের সকলেই একটি নির্দিষ্ট সি-ফুড বাজারের সঙ্গে যুক্ত। এই ছোট বিষয়গুলো খেয়াল করলে রোগের উৎস ও চরিত্র বুঝতে সুবিধা হয়। সেই থেকে এই নয়া করোনা ভাইরাস (SARS-CoV-2) পৃথিবীর নানা দেশে ছড়িয়েছে। তার চেয়েও দ্রুত ছড়িয়েছে COVID-19 বিষয়ক আতঙ্ক। উৎসব বা উল্লাসের মতো আতঙ্কও একধরণের উত্তেজক (stimulant), যা আমাদের বাঁচতে সাহায্য করে ব্যক্তিগত এবং সামাজিক পরিসরে। উৎসব ও আতঙ্কের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে সমাজ ঝিমিয়ে পড়ে। বস্তুত ওরকম সুদীর্ঘ অনুত্তেজিত শান্তিতে আমাদের শরীরও ঝিমিয়ে পড়ে এবং ক্ষয়ে যেতে শুরু করে। মানুষ তাই এই দুয়ের যেকোনোটা পেলেই লুফে নেয়। আপাতত মানুষের বিশ্ব একটি বাস্তব শত্রু পেয়েছে, তাই কাল্পনিক জুজুর পিছনে নিরন্তর ধাওয়া করার রাজনীতিকে দিন কতকের জন্য ছুটি দিয়ে সত্যিকারের একটা সমস্যাকেও হুজুগে পরিণত করা সম্ভব হচ্ছে। চীন, ইরান, থাইল্যান্ডের পাশাপাশি ইতালি, আমেরিকার মতো দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ভ্রমণ এবং ব্যবসায় বড় মন্দার সৃষ্টি হয়েছে। সেনসেক্স দ্রুত নামছে সিঁড়ি বেয়ে। হেলথ ইকোনমিক্সের উল্টো পিঠ প্রকট হচ্ছে, যা বেশ কালচে। করোনা ভাইরাসের ভয়ে এটা-সেটা কোরোনা জাতীয় তালিকাযুক্ত অতি প্রয়োজনীয় লেখা ইতোমধ্যে সংবাদপত্রে এবং সোশাল মিডিয়ায় বহুলভাবে প্রচারিত হয়েছে। ফেসবুক হোয়াটস্যাপে কিছু অদ্ভুত অপপ্রচার অবশ্যই হয়েছে, যার ফলে মুরগীর মাংসের দাম নেমেছে একশ টাকার নীচে আর খাসির দাম পৌঁছে গেছে আটশ’য়। পাশাপাশি সঠিক এবং জরুরি প্রচারও অনেক হয়েছে এবং হচ্ছে। কাউকে ফোন করলেও কলার টিউনের বদলে শোনা যাচ্ছে কাশির আওয়াজ ও সাবধান-বাণী। বিভিন্নভাবে এই কথাগুলো বারবার শোনা আর শিখে ফেলা দরকার। বারবার সাবান আর জল দিয়ে অন্তত কুড়ি সেকেন্ড করে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় মুখ-নাক ঢাকার জন্য হাতের তালুর বদলে অন্যকিছু ব্যবহার করা (কারণ তালু ও আঙুল সংক্রামিত হলে তা থেকে ছোঁয়াছুঁয়ির মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ায় সবচেয়ে সহজে), সর্দি-কাশি হলে বাচ্চাকে স্কুলে না পাঠানো, সেরকম রোগে আক্রান্ত রোগীদের থেকে কিছুটা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, নিশ্বাস ও কাশির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানো আটকাতে এন-৯৫ মুখোশ (যা রোগীকে পরিয়ে রাখাই সবচেয়ে ভালো), নিজের বা অন্যের ক্ষেত্রে COVID-19 এর সন্দেহ হলেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা স্বাস্থ্য আধিকারিকদের জানানো, সন্দেহভাজন সংক্রামিত ব্যক্তিদের উপযুক্ত পরিকাঠামোয় আলাদাভাবে রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা… এই সবই মহামারী প্রতিরোধে সাহায্য করবে। সাবধানতা সাহায্য করলেও আতঙ্ক বিশেষ সাহায্য করবে না।

No comments:

Post a Comment